সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
ফরিদপুর প্রতিনিধি ॥
ফরিদপুরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জ্বালানি তেল মজুতের অভিযোগে দুটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পাম্প দুটি বন্ধ থাকলেও ভেতরে প্রায় ৫৪ হাজার লিটার তেল পাওয়া যায়। এ সময় একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও তেল সরবরাহের শর্তে অন্যটিকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানের বিস্তারিত:
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে প্রশাসন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেসকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম, দীপ্ত চক্রবর্তী ও সাকিব রহমান আকাশ।
হোসেন ফিলিং স্টেশন: পাম্পটি বন্ধ রেখে ভেতরে ২৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭ হাজার লিটার পেট্রল, সাড়ে ৬ হাজার লিটার অকটেন এবং সাড়ে ১৪ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রয়েল ফিলিং স্টেশন: এখানে ২৫ হাজার ৯০০ লিটার তেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। যার মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার লিটার পেট্রল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন ও ১৯ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে ক্ষমা প্রার্থনা করলে, তাৎক্ষণিক তেল সরবরাহের শর্তে তাদের অর্থদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য:
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পাম্পগুলো থেকে সাধারণ মানুষের জন্য তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেসকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, “ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে আমাদের এই তদারকি ও অভিযান নিয়মিত চলবে। বর্তমানে পাম্পগুলো থেকে স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি হচ্ছে।”